মুকেশ আম্বানি নিজেই তার নিজের পরিচয়

0
149
Business Leagend Mukesh Ambani and Reliance Group

মুকেশ আম্বানি শুধু ভারত নয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদশালী একজন মানুষ। তার বাবার হাত ধরে তার ব্যবসা শুরু। প্রথম জীবনে তার বাবা ছিলেন একজন পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী। তখন তার বেতন ছিল মাত্র ৩০০ রুপি।

নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই কারণ মুকেশ আম্বানি নিজেই তার নিজের পরিচয়। মুকেশ আম্বানি পৃথিবীর শীর্ষতম ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী। মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক। তিনি তার মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে তুলেছেন তার প্রতিষ্ঠানকে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উন্নতির সাথে যোগ হয়েছে তার নিজের অর্থবিত্ত, সম্মান, মর্যাদা। বিখ্যাত ফোর্স ম্যাগাজিনের বিশ্ব ধনীদের তালিকায় নিজের জায়গাটা বেশ শক্ত করে ধরে রেখেছেন তিনি। ভারতের হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ নেই, তার প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি নিজেই।

তার মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য হচ্ছে ২১.২ বিলিয়ন ডলার, যার ভারতীয় রুপির মূল্যমান ১.২৯ লাখ কোটি। মুকেশ আম্বানির জন্ম ইয়েমেনে হলেও তার পরিবার ভারতীয় নাগরিক। মুকেশ আম্বানি ১৯৫৭ সালের১৯শে এপ্রিল ইয়েমেনের একটি দেশে জন্মগ্রহণ করেন। মুকেশ আম্বানির পিতার নাম ধিরুবায় আম্বানি, তার মাতার নাম ককিলাবেন আম্বানি। তার এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে। তিনি তার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। তার ভাইয়ের নাম অনিল আম্বানি।

স্কুল জীবনে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.এ করেন। তিনি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে তার পড়াশোনা শেষ করে।

তখনো তিনি অন্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই তার জীবন কাটাচ্ছিলেন, তিনি তখনও সম্পদশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেননি। মুকেশ আম্বানি ও তার পরিবার প্রথমে মুম্বাইয়ের ফুলেশ্বর এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি তখন যে বাড়িতে বসবাস করতেন সেই বাড়িতে মাত্র দুটি শোবার ঘর ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়িতে এখন তাদের বসবাস। রিলায়েন্স কোম্পানির মাধ্যমে তাদের জীবন।

রিলায়েন্স কোম্পানির মাধ্যমে তার পরিবারের অর্থবিত্ত সব এসেছে এবং তার পরিবারের দিন বদলে যায়। রিলায়েন্স কোম্পানি এই সফলতা শুধু তার পরিশ্রম আর মেধার মাধ্যমে নয় তার বাবাই গড়ে দিয়েছিলেন তার এই কোম্পানির শক্ত ভিত। তার বাবা ধিরুবায় আম্বানি কে ভারতের শিল্পের নায়ক হিসেবে মানা হয়। ১৯৩২ সালের২৮শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ধিরুবায় আম্বানি। শুরুতে রিলায়েন্স কোম্পানি ইয়েমেন থেকে মসলা আমদানি করতো। আর এই মসলা আমদানি ব্যবসার প্রসার যখন ঘটে তারা সুতোর ব্যবসাও শুরু করেন।

১৯৮০ সালে মুকেশ আম্বানির পড়াশোনা শেষ হলে তিনি দেশে ফিরে সুতার ব্যবসা সামলানোর দায়িত্ব নেয়। তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে এই ব্যবসার দ্রুতগতিতে প্রসার ঘটে। তাদের ব্যবসায় নতুন করে যোগ হয় পেট্রোলিয়াম বিশুদ্ধিকরন, টেলিকমিউনিকেশন, বিনোদন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ইত্যাদি। ২০০২ সালে মুকেশ আম্বানির বাবা মারা যান।।

তার বাবা মারা যাওয়ার পর মালিকানাকে কেন্দ্র করে মুকেশ ও অনিল দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তবে তাদের মা এই পরিস্থিতিকে সামাল দেন যার ফলে অনিল রিলায়েন্স এর টেলিকমিউনিকেশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিনোদনের মালিকানা এবং মুকেশ পান তেল, টেক্সটাইল এবং শোধনাগারের ব্যবসা।

এখন রিলায়েন্স বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার নির্মাণ করেছে। এবং তিনি আগামী পাঁচ বছরে ১৫-৩০ মিলিয়ন ভারতীয়দের চাকরির ব্যবস্থা করবেন বলেছেন। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে দৈনিক এগারো কোটি রুপি আয় হয়। তার স্ত্রীর নাম নিতা আম্বানি।১৯৮৫ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। ইশা, অনন্ত আম্বানি ও আকাশ নামে তার তিনটি সন্তান আছে।

মুকেশ আম্বানির বিলাসবহুল বাড়িটির নাম অ্যান্টিলিয়া, যেটি আটলান্টিক মহাসাগরে পৌরাণিক একটি দ্বীপের নাম। ঘরে খাওয়া দাওয়া সারে মুকেশ আম্বানি কিন্তু সুযোগ পেলে বেরিয়ে পড়েন পরিবারের সঙ্গে। সর্বশেষে বলা যায় মুকেশ আম্বানি একজন দেশ প্রেমিক এবং সার্থক ব্যবসায়ী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here