ওয়ারেন বাফেট এর জীবনী আমাদের একজন সফল উদ্যোক্তার কথা মনে করিয়ে দেয়

0
135
Warren Buffett

ওয়ারেন বাফেট একাধারে একজন মার্কিন ব্যবসায়ী ও হ্যাথাওয়ে কম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান।

২০০৮ সালের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় প্রথম স্থানে এসে ছিলেন এই ব্যাক্তি। ২০১১ সালে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করেছিলেন। ২০০১২ সালে টাইম ম্যাগাজিন বাফেটকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০.২ বিলিয়ন ডলার ফলে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে তৃতীয় সম্পদশালী ব্যক্তি । তবে তার সফল হওয়ার ব্যাপারটা অতটা সহজ ছিল না।

ব্যর্থতা বারবার এসেছিল কিন্তু হার মানেনি তিনি। তার পুরো নাম ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট। তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর মালিক,একজন সফল উদ্যোক্তা, মানবসেবী। ১৯৩০ সালে আমেরিকার নাব্রাসকা প্রদেশের ওমাহায় স্টক ব্রোকার হাওয়ার্ড বাফেট ও লেইলা বাফেট এর ঘরে জন্ম নেন। তিনি তাঁদের এক মাত্র পুত্র ।

ওয়ারেন বাফেটরা ছিল তিন ভাইবোন যার মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ওয়ারেন বাফেটের প্রথম ওমাহার ‘রোজ এলিমেন্টারি স্কুল’ এ পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা হাওয়ার্ড নাব্রাসকার কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হন, তখন ওয়ারেন বাফেটের বয়স ১২ বছর । শৈশব থেকে তার স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানো। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাফেট অ্যালিস ডিল জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং উড্রো উইলসন হাই স্কুল থেকে পাস করেন।

ছোট থেকেই বাফেট অর্থ উপার্জন ও সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি তখন কিছুদিন তার দাদার মুদি দোকানেও কাজ করেছিলেন। স্কুলে থাকাকালে বাফেট পত্রিকা, কোকাকোলা ইত্যাদি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনও করেন। ছোটকাল থেকেই বাফেটের শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগের উপর আগ্রহ জন্মায়। দশ বছর বয়সে বাফেট নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ দেখতে নিউ ইয়র্ক শহরে আসেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি তিনটা শেয়ার ক্রয় করেন। হাই স্কুলে থাকাকালে তিনি তার বাবার কিছু সম্পত্তি বিনিয়োগ করেন এবং তা থেকে একটা খামার ক্রয় করেন।

১৯৪৭ সালে বাফেট ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়াতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি প্রায় দুই বছর পড়ালেখা করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা-লিঙ্কন থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক হন। এরপর তিনি কলাম্বিয়া বিসনেস স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকত্তোর লাভ করেন।যা তার সাফল্যের একটি নতুন রুপ।

১৯৭০ থেকে বর্তমান অবধি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনকর্পোরেটেড-এ চাকরি করছেন তিনি। ১৯৫০ সালে বাফেট মাত্র ২০ বছর বয়সে ৯৮০০ মার্কিন ডলার জমা করেন এবং তা থেকে ওমাহাতে বাফেট সিঙ্কলেয়ার টেক্সাকো নামের একটি গ্যাস স্টেশন ক্রয় করেন। কিন্তু এতে বাফেট সফল হতে পারেননি,কিন্তু তিনি ব্যর্থতা অনুভব করেননি।১৯৫২ সালে তিনি সুসান থম্পসনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৫৬সালে বাফেটের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ছিল ১৭৪০০০ মার্কিন ডলারেরও বেশি। এই অর্থ দিয়ে তিনি বাফেট পার্টনারশিপ লিমিটেড নামে ওমাহাতে তার প্রথম প্রতিষ্ঠান এর কাজ শুরু করেন। তখন তিনি ওমাহাতে ৩১৫০০ ডলারে একটি বাড়ি ক্রয় করেন যে বাড়িতে তিনি এখনো বসবাস করেন। ১৯৫৮ সালে বাফেটের পাঁচটা ব্যবসার অংশীদার ছিলেন ।

১৯৬০ সালে তার এই অংশীদার বৃদ্ধি পেয়ে সাতটি হয়েছিল। ২০০৮ সালে ওয়ারেন বাফেট বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হন।তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ফোর্বসের মতে ৬২ বিলিয়ন ডলার ও ইয়াহুর মতে ৫৮ বিলিয়ন ডলার হয়। ২০০৯ সালে বিলগেটস পুনরায় ফোর্বসের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন, যা তিনি ২০০৮ এর আগে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অধিকার করে ছিলেন।

২০০৯ সালে বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪০ বিলিয়ন এবং বাফেটের ৩৭ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ওয়ারেন বাফেটের সম্পদ ২৫ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পায়। ২০১১ সালের নভেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, আট মাস ধরে ওয়ারেন বাফেট আইবিএম কোম্পানির ৬৪ মিলিয়ন শেয়ার কিনেছেন, যার মোট মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার।

এই বিনিয়োগের ফলে আইবিএম কোম্পানিতে তার মালিকানা ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। এর পূর্বে বাফেট বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার বলেছিলেন যে তিনি কোন প্রযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করবেন না। কারণ প্রযুক্তি বিষয়ে তিনি ভালভাবে বোঝেন না। তিনি বলেন

“আমি এমন কোন বড় দেখিনি যেটি তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আইবিএম-এর মত এতটা সুনির্দিষ্ট।”

তিনি সবসময়ই বড় বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের ব্যয়বহুল খরচের প্রতি নিন্দা জানাতেন এবং নিজেও অধিকাংশ সময় গণপরিবহন ব্যবহার করতেন।

“খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা খরচ করুন”

তার এই উক্তিটি যেন তার কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here