করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার পর্যালোচনা করে দেখবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0
159

করোনায় এ পর্যন্ত ২১২ টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। চীন থেকে উৎপন্ন এ ভাইরাসকে বিশ্ব মহামারী বলা হয়েছে। করোনার সংক্রামন দিন দিন বাড়ছেই। যুক্তরাজ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালির মতো দেশগুলোতে যেন মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। চীনের উহান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও, সারা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, ধারণ করেছে মহামারীর রূপ কিন্তু কবে যে শেষ হবে এই মহামারী তা আমরা কেউ জানিনা। অথচ একশোরও বেশি দেশ তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন এর উপর, এখনো মেলেনি এর কোনো সুরাহা। আর এই গবেষণায় বাদ পড়েনি আমাদের এই ছোট্ট ভূখন্ড, বাংলাদেশ।

কিন্তু চীনের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার সর্বত্রই এখন কমে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকও হতে শুরু করেছে সেখানে। কিন্তু এমন সময় অন্যান্য দেশগুলোতে যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে সংক্রামন আর মৃত্যুর হার। কবে যে শেষ হবে এই মৃত্যুর মিছিল তা কেউই জানে না। করোনা ভাইরাস মহামারীতে মৃত্যুর মিছিলে ইতালিকে ছাড়িয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল ছিল তা কিছুটা কমলেও আক্রান্ত সংখ্যা যেন বেড়ে চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন আক্রান্ত সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বাড়তে পারে মৃত্যুর মিছিল এবং সরকারকে জোরদার প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছেন তারা। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার পর্যালোচনা করে দেখবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলছে সারা বিশ্ব।

তবে লক ডাউন পরিস্থিতি আগের মত নেই কোথাও হচ্ছে শিথিল কোথাও হচ্ছে আরো কড়াকড়ি, কারণ হচ্ছে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে সেখানে লকডাউন এর দিন আরো বাড়ছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে সেখানে লকডাউন এর দিন কমেছে। করোনা ভাইরাস মহামারীতে বিশ্বের সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হল যুক্তরাষ্ট্র। সংক্রমণের সংখ্যা যেমন ছিল বেশি ঠিক তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল বিশ্বের সবথেকে বেশি। এদিকে করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা ভেবে ছয় মাস বেতন কম নেবেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন।

চীনের পরিস্থতি ভালো হলেও পুরো বিশ্বের পরিস্থিতি ভয়াবহ। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আর তাই সবকিছু স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে বুঝতে পারছে না কেউ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন দেশটির লকডাউন পরিস্থিতি আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ চলবে। সবাইকে ধৈর্য ধরে ঘরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। চীনের বাইরের দেশের যতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ চীনের উহান শহরে ছিলেন, যেখান থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। করোনা এসেছে হয়তো করোনা যাবে, যুগে যুগে করার মতো আরও অনেক মহামারীর আবির্ভাব ঘটেছিল এবং এসবের প্রতিষেধক ও মানুষ তৈরি করেছে।

করোনার প্রতিশোধক হয়তো তৈরি হবে কিন্তু এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ। তার সাথে বেড়ে চলেছে বেকারত্বের হার হারাচ্ছে মানুষ তাদের কর্মস্থল ফলে অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতি বিরাট ক্ষতির মুখে। প্রতিদিন কেউ-না-কেউ হারাচ্ছে তাদের স্বজনকে। তাহলে কি আমরা করনার থাবায় তিলে তিলে হারাতে থাকবো স্বজনদের প্রিয় মুখ? আমাদের কোনো প্রচেষ্টাই কি তাহলে কাজে লাগবেনা?

আশার বানী হলো উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ১০০র ও বেশি দেশ ভ্যাক্সিন তৈরিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে।সফলতার মুখও দেখেছে কোনো কোনো দেশ।তার মধ্যে চীন, যাপান, ইতালি ইত্যাদি পরিক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে এখন পর্যন্ত কেও শতভাগ সফলতার মুখ দেখেনি।কিন্তু আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে আছি সফল হোক তারা।

যুগে যুগে আরো অনেক ভাইরাস,মহামারির আবির্ভাব ঘটেছিল।যুক্তরাজ্য সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছল ইবোলা নামক মহামারি ১৯৭৬সালে। ইবোলার সফল ভ্যাক্সিনটি আরো গবেষনা করে এই ক্লান্তিকালে কাজে লাগানোর জোরদার প্রচেষ্টা চলছে সারা দুনিয়াব্যাপি।তার মধ্যে আমাদের দেশের কিছু ঔষধ কম্পানি কাজ করছে তারা হলো বেক্সিমকো,বিকন,স্কয়ার, এস.কে.এফ ইত্যাদি ফার্মাসটিক্যালস লিমিটেড পরিক্ষা মূলক ভাবে ব্যবহার করছে।সফলতা কতখানি তা এখোনো নিশ্চিত নয়।আমরা খুবই আশাবাদী যে কোনো না কোনো দেশ করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের সুখবর দিবে ইনশাল্লাহ।

করোনাভাইরাসের নিরাপদ ও কার্যকর টিকা, পরীক্ষা এবং প্রতিরোধের ওষুধ উদ্ভাবনে বৈশ্বিক তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছে জেনেভা ভিত্তিক জাতিসংঘের সংস্থা ডব্লিউএইচও। শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা তৈরি করা এই ভাইরাসটিতে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে করোনার টিকা উদ্ভাবনে একশোটিরও বেশি প্রচেষ্টা চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে।

গত এপ্রিলে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, টিকা উদ্ভাবনে অন্তত ১২ মাস সময় লাগবে। করোনাভাইরাস বলতে ভাইরাসের একটি শ্রেণিকে বোঝায় যেগুলি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেকসময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয় কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে, যেমন সার্স, মার্স এবং কোভিড-১৯। অন্যান্য প্রজাতিতে এই লক্ষণের তারতম্য দেখা যায়। যেমন মুরগির মধ্যে এটা উর্ধ্ব শ্বাসনালী সংক্রমণ ঘটায়, আবার গরু ও শূকরে এটি ডায়রিয়া সৃষ্টি করে।

মানবদেহে সৃষ্ট করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর মত কোনো টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আজও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে বৃটেন একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি খাত গত একমাসে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোটা দাগে- কৃষি, সেবা এবং শিল্প খাতে ভাগ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে এখন সেবা খাতের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া শিল্পখাত ৩৫ শতাংশ এবং কৃষির অবদান এখন ১৪ শতাংশের মতো। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর লকডাউনের সফলতা যেমন আছে তেমনি এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও বহুমাত্রিক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হয়েছিল এ মাসে বিশ্বব্যাংক এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে প্রবৃদ্ধি কমে ২-৩ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে এই মহামারি যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে এবং সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে যা বাংলাদেশে -৫.২ পর্যন্ত হতে পারে। উন্নত দেশগুলোর মতো করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লকডাউনকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ৷ কিন্তু প্রায় একমাস ধরে চলা এ অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতিতে সীমাহীন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে৷ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের সামর্থ্যে অনেক ঘাটতি রয়েছে৷

উন্নত দেশের অনুকরণে দেশ ‘লকডাইন’ করে দেওয়া তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে নুরুল কবির বলেন, সামর্থ্যের ঘাটতির কারণে লকডাউন যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা সম্ভব না সেটা এখন প্রমাণিত৷ তাই বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে হবে। করোনা মোকাবেলায় প্রচলিত ধারণার বাইরে অন্য কোনো কার্যকরি উপায় আছে কি না তা এখনো পরীক্ষিত নয়। এর ভয়াবহতা তো আমরা বুঝতে পারছি যখন সারা পৃথিবী ব্যাপী চলছে লকডাউন বা অবরুদ্ধ অবস্থা। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব।

অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সব কিছু আজ স্থবির। বলতে গেলে অনেকটা ‘ভার্চুয়াল’ জগতে বাস করছি আমরা। এই স্থবিরতা বিশ্বকে আজ অচল করে দিয়েছে, আর এই অচল অবস্থাকে সচল করা এত সহজ হবে না। যদি আগামী তিন মাসের মধ্যেও পরিস্থিতির স্বভাবিকতা ফিরে আসে তবুও যে ক্ষতি বিশ্ব ব্যাপী হয়ে যাবে তার প্রভাব কমপক্ষে আগামী পাঁচ বছর ব্যাপী চলবে।

আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যদি সময় আরও বেশি লাগে, তবে পরিস্থিতি তো আরো বেশি ভয়ানক হবে। আর ক্ষতি কেবল অর্থনীতিতেই হবে না; সারা বৈশ্বিক ব্যবস্থায়ই এর প্রভাব পড়বে। মানুষের চিন্তার জগত ও আচরণেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। সেটা হয়েছিল অতীতের মহামারীর পরেও।

সে পরিবর্তন হবে ইতিবাচক ও নেচিবাচক দুটোই। বিশ্ব সভ্যতার সামনে এক নতুন প্রশ্ন দেখা দিবে বড় করে। বিশ্ব নেতৃত্বকে নতুনভাবে ভাবতে হবে- প্রতিযোগিতা বড় হবে- না মানব কল্যাণ, মানব সভ্যতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here