26.9 C
New York
Tuesday, August 3, 2021

মেসি-আর্জেন্টিনার সেমিতে ওঠার গল্প

৪০ মিনিটের গল্পটা প্রথমে বলা যাক।

অন্য যে কেউ হলে হয়তো ওখান থেকে শট নেওয়ার চেষ্টা করতেন। গোলকিপার নেই গোলবারে, সামনে দুজন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় থাকলেও তাঁরা স্থির নেই। এমন অবস্থায় গোলে শট নিলে কেউ আপত্তি তুলতেন না। বিশেষ করে সেই ব্যক্তি যদি মেসি হন।

কিন্তু মেসি বলেই ওখান থেকে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেন না। মেসির সঙ্গে খেলেছেন এমন যে কেউ বলবেন, মাঠের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে মেসি অদ্বিতীয়। সেটা টের পাইয়ে দিলেন পরের ঘটনায়। বক্সের অন্য প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা রদ্রিগো দি পলকে দেখে ফেললেন। বাঁকানো এক পাস পাঠিয়ে দিলেন সতীর্থের দিকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো দি পল এতটাই সময় পেলেন যে শট নেওয়ার আগে বলটা থামিয়ে একটু মঞ্চটা প্রস্তুতও করতে পারলেন। গোল!

গোলের পরিস্থিতি সৃষ্টিও হয়েছে মেসির সুবাদে। মাঝমাঠে লওতারো মার্তিনেজের ব্যাক ফ্লিক থেকে বল পেয়ে মেসি একটা থ্রু বল দিয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেসের দিকে। ইকুয়েডর রক্ষণের সবাইকে এড়িয়ে বলের দিকে ছুটছিলেন গঞ্জালেস। তাঁকে আটকে বক্সের বাইরে ছুটে এসেছিলেন ইকুয়েডর কিপার গালিন্দেজ। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে আটকেও দিয়েছিলেন গালিন্দেজ। ধাক্কা খেয়ে গঞ্জালেস যখন মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছেন, তখন বল মেসির পায়ে। চাইলেই শট নিতে পারতেন কিন্তু মেসি করলেন যা শুধু মেসি চিন্তা করতে পারেন।

৮৪ মিনিটের গোলে এতটা নাটকীয়তা ছিল না। ডি-বক্সের একদম বাইরে বল খোয়ান ইকুয়েডরের হিনচাপি। বলটা পেয়ে গেলেন মেসি। বক্সের অন্যদিকে থাকা মার্তিনেজের দিকে বল পাঠিয়ে দিলেন। এবারও সেই দৃশ্য। এতটা ফাঁকায় ছিলেন মার্তিনেজ যে বেশ সময় নিয়েই বল থামিয়ে গোলে শট নিলেন। ২-০ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলে চাইলে একটু হলেও দাবি রাখতে পারেন বদলি নামা আনহেল দি মারিয়া। হাজার হলেও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে চাপে ফেলে বল আদায়ের কাজটা তিনিই করেছেন। তৃতীয় গোলেও পার্শ্ব চরিত্র দি মারিয়া। বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়ছিলেন পিএসজি উইঙ্গার। তাঁকে আটাকানোর জন্য ফাউল করে বসলেন দ্বিতীয় গোলের ভিলেন হিনচাপি। পেনাল্টি!

ভিএআর অবশ্য বাধা দিল সে সিদ্ধান্ত। রেফারিকে আরেকবার চেক করতে বললেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। রেফারি সেটা দেখে সিদ্ধান্ত বদলালেন। পেনাল্টি বক্সের একটু বাইরে হওয়ায় ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কপাল পোড়ে হিনচাপির। বল আটকানোর কোন চেষ্টা না থাকায় এবং পেনাল্টি না হওয়ায় তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ফ্রি-কিক নিতে নিতে ৯৩ মিনিট। বক্সের একদম ওপর থেকে কিক নিলেন মেসি। বাঁকানো শটটি পোস্টের একদম কোনা ঘেষেঁ জালে ঢুকেছে। টুর্নামেন্টে মেসির চতুর্থ গোল ঠেকানোর কোনো উপায় ছিল না গালিন্দেজের।

আর্জেন্টিনা আজ আরও বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়তে পারত। কিন্তু প্রথমার্ধে সুবর্ণ এক সুযোগ নষ্ট করেছেন গঞ্জালেস। অবশ্য মেসিও ফাঁকায় দাঁড়িয়ে পোস্টে লাগিয়েছেন বল। কিন্তু ম্যাচ শেষে এ নিয়ে হাপিত্যেশ করার কোনো কারণ রাখেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

%d bloggers like this: