26.9 C
New York
Tuesday, August 3, 2021

জয় হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশকে

৭৩ বলে ৯২ রান করে থেমেছেন টেলর, ফলে চতুর্থ দিনে শেষ পর্যন্ত হয়েছে দুটি সেঞ্চুরিই। সাদমান ইসলামের ক্যারিয়ারের প্রথম, নাজমুল হোসেনের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর ১ উইকেটে ২৮৪ রান তুলেই ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে ৪৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে সফরকারীরা। এর আগে কখনোই এত কম উইকেটে এত রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারেই মিল্টন শুম্বা ক্যাচ দিয়েছিলেন, ১৫ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর দেখা গেছে অদ্ভুত এক জুটির। টেলর একদিকে ছুটেছেন বল্গা হরিণের মতো, ওদিকে তাকুজোয়ানেশে কাইতানো চড়েছিলেন কাছিমের পিঠে। দুজনের জুটিতে উঠেছে ৯৫ রান। সেখানে টেলরের সংগ্রহ ৭৩ বলে ৯২, কাইতানোর অবদান ৬৫ বলে ২!

কাইতানো শেষ পর্যন্ত করেছেন ১০২ বলে ৭ রান, এ ইনিংসে আবার ইবাদত হোসেনের হাতে সহজ ক্যাচ তুলেও জীবন পেয়েছিলেন তিনি! জিম্বাবুয়ের হয়ে কমপক্ষে ১০০ বল খেলা ইনিংসগুলির মধ্যে কাইতানোর ইনিংসটি সবচেয়ে ধীরগতির। অবশেষে সাকিবের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। কাইতানোর উইকেটের পর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ডোনাল্ড তিরিপানো এসেছেন, ডিওন মায়ার্সের সঙ্গে অপরাজিত থেকেই দিন শেষ করেছেন।

বাংলাদেশের আরেকটি দাপটের দিনে তাই যা একটু বাধা তৈরি করেছিলেন ওই টেলরই। এর আগে সাদমান-নাজমুলের সেঞ্চুরিতে হারারে টেস্টে নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছিল সফরকারীদের। ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন ওপেনিং জুটি এদিন ভেঙেছিল ৮৮ রানে। ৪৩ রান করে রিচার্ড এনগারাভার বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে গালিতে মায়ার্সের দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়েছিলেন সাইফ হাসান। অফস্টাম্পের বাইরে স্ল্যাশ করছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত বিপদ ডেকে এনেছে সেটিই।

বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের সাফল্যের খেরোখাতা বন্ধ হয়ে গেছে সেখানেই। ১০১ বলে ফিফটির পর সাদমান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ১৮০ বলে। এনগারাভার বলে সিঙ্গেল নিয়ে নড়বড়ে নব্বইয়ে গিয়েছিলেন, এরপর তিন অঙ্কে যেতে বেশিক্ষণ সময় নেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। মিল্টন শুম্বার বলে চারের পর ডাবলসে সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে তাঁর। ৭ম বাংলাদেশি ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন তিনি, তামিম ইকবাল ছাড়া ২০১৫ সালের পর এ পজিশনে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি ছিল শুধু ইমরুল কায়েসের। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ বলে ১১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন সাদমান, ইনিংসে মেরেছেন ১১টি চার।

বাংলাদেশ অবশ্য দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করতে পেরেছে নাজমুলের ঝোড়ো গতির ব্যাটিংয়ে। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করতে যেখানে নাজমুল খেলেছিলেন ২৩৫ বল, এদিন মাত্র ১০৯ বলেই তিন অঙ্কে পৌঁছে গেছেন তিনি। ১১৮ বলে ১১৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি, ৫টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৬টি ছয়। ব্যাটিং করেছেন ৯৯.১৫ স্ট্রাইক রেটে। কমপক্ষে শতরান এসেছে এমন ইনিংসে নাজমুলের ইনিংসটি বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুতগতির। তাঁর ছয়টি ছয়ও বাংলাদেশের হয়ে এখন যৌথভাবে মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সাদমান ও নাজমুল—দুজনই অবশ্য ফিরতে পারতেন আগেই। ৫৫ রানে সাদমান এবং ৭১ রানে নাজমুল বেঁচে গেছেন সহজ ক্যাচ পড়ে যাওয়াতে। সাদমানের ক্যাচটি ফেলেছিলেন মায়ার্স, নাজমুলেরটি টেলর। হাতছাড়া হওয়া দুই সুযোগের চড়া মাশুলই গুনতে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে।

টেলর পরে ঝোড়ো ইনিংসে পুষিয়ে দেওয়া চেষ্টা করেছিলেন ক্যাচ মিসের ক্ষতিটা, তবে তাঁকে পুড়তে হয়েছে সেঞ্চুরির আক্ষেপেই। সঙ্গে বাংলাদেশও জয়ের দিকে এগিয়ে গেছে আরেকটু।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

%d bloggers like this: