26.9 C
New York
Tuesday, August 3, 2021

অক্টোবরে ভারতে তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এই সমীক্ষার পাশাপাশি মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের কিছু সুচিন্তিত অভিমতও প্রকাশিত হয়েছে। ভারতে তৃতীয় তরঙ্গের মোকাবিলা কীভাবে করা উচিত, সে বিষয়ে ওই বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। সরকারকে তাঁরা বলেছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ আবশ্যক। দেশের সর্বত্র সবার জন্য একধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে, তাতে কাজের কাজ হবে না। রাজ্যে রাজ্যে, জেলায় জেলায় পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিষেবার লাগামছাড়া খরচ বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেছেন, পরিষেবা খরচকে স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন, জরুরি ওষুধ ও হাসপাতালের খরচে সমতা রাখতে হবে। সে জন্য পরিষেবা খরচ নিয়ে এক স্বচ্ছ জাতীয় নীতি গ্রহণ করা দরকার। প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিমায় গুরুত্ব দেওয়া।

এই বিশেষজ্ঞরা মোট আটটি জরুরি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এগুলো বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা ভালোভাবে করা সম্ভব হবে। সুপারিশে বলা হয়েছে, কাদের কখন টিকা দিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার রাজ্যের হাতেই ছেড়ে দেওয়া দরকার। টিকা এখন জরুরি পণ্য। তাই এর ব্যবস্থাপনা বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া অনুচিত হবে। কোভিডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক।

রোজগার হারিয়ে তাঁদের জীবন বিপন্ন। রাষ্ট্রের উচিত, তাঁদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য দেওয়া, যাতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংগঠিত ক্ষেত্রের মালিকদের শ্রমিক ধরে রাখতে হবে। তাঁদের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় তরঙ্গের ঢেউ অনেকটাই স্তিমিত। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, তৃতীয় তরঙ্গ কবে আসতে পারে।

বিশ্বের নামকরা ৪০ জন চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, মহামারি বিশারদ, ভাইরাস বিশারদের সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স যে সমীক্ষা করেছে, তাতে অধিকাংশের মত, তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দেবে অক্টোবর নাগাদ।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়ার মতে, দুটি কারণে মোকাবিলা সহজতর হবে। প্রথমত, তত দিনে অনেকের শরীরে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, দেশে টিকার জোগানও অনেক বেড়ে যাবে। অধিকাংশের ধারণা, তৃতীয় ঢেউ বেশি কাবু করবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের।

ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝাপটা এই মুহূর্তে অনেক কম। সংক্রমণ ও মৃত্যু দিন দিন কমছে। ফলে রাজ্যে রাজ্যে খুলতে শুরু করেছে বাজার–হাট, অফিস–কাচারি।

স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। এ অবস্থায় দিল্লি হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করে বলেছে, কোভিডবিধি ভেঙে মানুষ বেপরোয়া হলে, তা তৃতীয় ঢেউকে মাত্রাছাড়া হয়ে উঠতে উৎসাহিত করবে। আদালতের পরামর্শ, বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সচেতন হতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

%d bloggers like this: